রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের স্মারক ‘চিনির টুকরা মসজিদ’

  • আব্দুল্লাহ আল হাসিব, বরিশাল
  • ২০২০-০৮-২৮ ২১:০৩:২২
image

পুরান ঢাকার কসাইটুলির কে পি ঘোষ রোডের পাশে দৃষ্টিনন্দন ও বিভাময় কারুকার্যসমৃদ্ধ একটি মসজিদ সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। স্থাপত্যশৈলী ও নকশাকৃত দৃশ্যে দেদীপ্যমান। ৩০ বছর ধরে বিটিভির আজানের সময় এ মসজিদের দৃশ্য দেখানো হতো।

লোকজনের কাছে ‘কাস্বাবটুলি জামে মসজিদ’ নামেই পরিচিত। তবে মসজিদের গায়ে চিনামাটির সাদা টুকরাগুলো দেখতে চিনির দানার মতো হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা মসজিদটিকে এই নামে ডাকেন। মসজিদটি তৈরিতে উজ্জ্বল রঙের চীনামাটির তৈরি মোজাইকের ব্যবহার বেশি।

হিজরি ১৩৩৮ সনে তৈরি মসজিদটির বয়স গত বছর ১০০ পেরিয়েছে। এশিয়াটিক সোসাইটি প্রকাশিত ঢাকা কোষ থেকে জানা যায়, জনৈক ব্যবসায়ী আবদুল বারি এটি তৈরি করেন। আয়তকার কাস্বাবটুলি জামে মসজিদের ছাদে তিনটি গম্বুজ। চার কোনায় চারটি বুরুজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। গম্বুজ আর বুরুজগুলোর মাথায় পদ্মফুলের নকশা করা তির। ছাদের চারদিক ঘিরে আছে অনেকগুলো টারেট, যা মসজিদের নকশাকে আরও জমকালো করে তুলেছে।

তবে মসজিদটির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘চিনিটিকরির কারুকাজ’। ভেতর-বাইরের দেয়ালে চিনিটিকরি পদ্ধতির মোজাইকে নকশা করা। চিনামাটির ভাঙা টুকরা আর রঙিন কাচ দিয়ে গোলাপের ঝাড়, আঙুরের থোকা, ফুলদানির ছবি ফুটে উঠেছে মসজিদের দেয়ালে-খিলানে। ভেতরের মিহরাব (কিবলামুখী কুলুঙ্গি) ও এর আশপাশের নকশা সবচেয়ে রঙিন ও জমকালো।

কয়েক বছর আগে মূল মসজিদের পূর্ব ও উত্তর পার্শ্বে সম্প্রসারণ করা হয়। মূল ভবনটি একতলা হলেও বর্ধিত অংশটি তিনতলা। বর্তমানে মসজিদটি প্রায় পাঁচ কাঠা জায়গায় অবস্থিত। নতুন অংশের পুরোটাই উন্নতমানের টাইলস দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে। চাকচিক্য এ চিনির টুকরো মসজিদের পূর্ব-দক্ষিণ পাশে রয়েছে অজু করার একটি হাউস। হাউসে সিমেন্টের একটি পদ্মফুলও তৈরি করে রাখা হয়েছে।

আশির দশকের শেষের দিক থেকে এ পর্যন্ত মসজিদের বিভিন্ন অংশের সংস্কার করা হলেও মূল শৈল্পিকতা, কারুকাজ ও নকশায় কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। সংস্কারের সময় মসজিদটির আয়তনে প্রশস্ততা আনা হয়। মূল স্থাপনার লাগোয়া অংশে তৈরি করা হয়, বহুতল বিশিষ্ট নতুন ভবন। মসজিদটিতে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন প্রায় ১৫ শ মুসল্লি।

কসাইটুলি পঞ্চায়েত ও মসজিদ কমিটি মিলে এ মসজিদের দেখভাল করে। তবে প্রাচীনতার কারণে ও কিছুটা অযত্নে মসজিদের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যগুলো দিনদিন নষ্ট হতে চলেছে। তাই শতবর্ষী এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন মসজিদ কমিটিরর সদস্যরা।   
    

এশিয়ান টাইমস্/ এএসএস


এ জাতীয় আরো খবর