রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

দিঘীনালায় সন্ধান মিলছে ‘তুয়ারি মাইরাং’ ঝর্ণা

  • আবুল হাসেম, খাগড়াছড়ি
  • ২০২০-০৮-৩০ ১৩:৩৬:২৭
image
ছবি : সংগৃহীত।

নদী, পাহাড়, উপত্যকা আর ঝর্ণা নিয়ে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি। 

এই  অঞ্চলগুলো পর্যটকদের কাছে বরাবরই দারুণ আকর্ষণীয়। পাহাড়ের পর পাহাড়ে সাজানো এই চিরসবুজ অরণ্য দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে এই জনপদকে আলাদা করেছে। এর ভূপ্রাকৃতিক গঠন স্বাতন্ত্র্য এলাকা হিসেবে মর্যাদা দিয়েছে। চির রহস্যভূমির এই জনপদ যেমন পর্যটকদের কাছে আর্কষণীয়, তেমনি এটি স্থানীয়দের কাছে ‘ভূস্বর্গ’।

খাগড়াছড়িতে দিন দিন বাড়ছে পর্যটকদের আগমন। এরই মধ্যে জেলার দীঘিনালা সীমান্তে সন্ধান মিলেছে প্রায় শত ফুট উঁচু ‘তুয়ারি মাইরাং'ঝরনা। 

অ্যাডভেঞ্চারদের স্বাদ নিতে নিতে নতুন সন্ধান পাওয়া ঝর্ণা দেখতে স্থানীয় পর্যটক ছাড়াও বাইরে থেকে আসছেন অনেকে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও গাইড সুবিধা দিচ্ছেন স্থানীয়রা।

খাগড়াছড়ি দীঘিনালার সীমানা পাড়ায় সন্ধান মিলেছে নতুন ঝর্ণা ‘তুয়ারি মাইরাং’। লোকালয় থেকে হেঁটে ঝর্ণায় পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র এক ঘণ্টা। উঁচু নিচু পাহাড়ে এখন চোখ ধাঁধানো সবুজ জুম। জুমের ল্যান্ডস্কেপজুড়ের সবুজ মখমল। কাছে দূরে ছোট ছোট জুমঘর। বন্যপ্রাণী থেকে জুমের ফসল বাঁচাতে জুমিয়া জুমঘর বানায়। আগে জুমিয়ারা ফলনের মৌসুমে জুমের ফসল পাহারায় জুমঘরে রাতযাপন করতেন।

বর্তমানে বন্যপ্রানীর উৎপাত কম হওয়ায় অনেক জুমিয়া রাতে থাকে না। জুমের পাহাড়জুড়ে এখন সবুজ ধান, ভুট্টা, মারফা, হলুদসহ বিভিন্ন ফসলের বাহার। ঝর্ণায় যেতে জুমের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ। পাহাড় থেকে নামতে হয় প্রাকৃতিক লতা বেয়ে। কয়েকটি পাথুরে জায়গা পারাপারে একমাত্র ভরসা সেই লতা।

তবে এসব জায়গা মোটা দড়ি ব্যবহার করা ঝুঁকিমুক্ত। পাহাড় থেকে লতা বেয়ে নেমে হাঁটত হয় পাহাড়ি ঝিরিতে। ঝিরির দুই পাশে উঁচু উঁচু টারশিয়ান যুগের পাহাড়। পাহাড়ি ঝিরিতে গা ছম ছম অনুভূতি। ঝিরিতে শত বছর ধরে আটকে আছে বড় বড় পাথর খন্ড। পাথর ও ক্যাসকেড বেয়ে নামছে পানির স্রোত।

উঁচু পাহাড় আর গভীর অরণ্যের কারণে ঝিরি পর্যন্ত পৌঁছে না সূর্যের আলো। পথে পথে আরো কয়েকটি ঝর্ণা দেখা যায়। তবে বৃষ্টি কম হওয়ায় সেসব ঝর্ণায় তেমন পানি নেই। ঝিরি পথে হাঁটার পর দেখা মিলে সুবিশাল তুয়ারি মাইরাং ঝর্ণা। শীতল ঝিরি পথের শেষে পাথরের পাহাড় বেয়ে নামছে ‘তুয়ারি মাইরাং’। এত উঁচু ঝর্ণা দেখে চোখ আটকে যাবে যে কারো। ঝর্ণার উল্টো দিকে পাথুরের পাহাড়। এমন ঝর্ণা দেখে মুগ্ধ পর্যটকরা।

ঢাকা থেকে তুয়ারি মাইরাং দেখতে বেড়াতে এসেছে ‘নেচার ট্র্যাভেলস বাংলাদেশ’-এর সদস্যরা। বেড়াতে আসা পর্যটক মারিয়া, মুশফিকা ও শান্তু জানান, করোনার মধ্যে দীর্ঘদিন যান্ত্রিক জীবনে আটকে ছিলাম। তুয়ারি মাইরাং ঝর্ণা দেখতে আসলাম। যারা অ্যাডভেঞ্চার পছন্দ করেন তারা আসতে পারবেন। ঝর্ণায় আসার পথ অত্যন্ত রোমাঞ্চকর। যারা পাহাড়ে আসতে পছন্দ করেন, ঝর্ণা পছন্দ করেন, এটি তাদের জন্য বেশ ভালো একটি জায়গা।

তারা বলেন, নাগরিক জীবনের ক্লান্তি কাটাতেই খাগড়াছড়ি এসেছি। নতুন একটা ঝর্ণা ‘তুয়ারি মাইরাং’। এখানে প্রাকৃতিক অনুভূতি আছে। তবে প্রকৃতিকে প্রকৃতির মতো করে উপভোগ করতে হবে।

‘তুয়ারিং মাইরাং’ প্রায় শতফুট উঁচু। অল্প কষ্টে অল্প হাঁটায় এখানে আসা যায়। দুই পাশে পাহাড়।

‘নেচার ট্র্যাভেলস বাংলাদেশ’-এর টিম লিডার ডা. মইনুল হাসান বলেন, তুয়ারি মাইরাং বেশ সুন্দর ঝর্ণা চারপাশটা বেশ রোমাঞ্চকর। পুরো পথজুড়ে অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাওয়া যায়। কোথাও কোথাও ঝিরি এবং ক্যাসকেড বেয়ে নামতে হয়। এ সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। বন্ধুর পথ পেরিয়ে ঝর্ণা দেখে মুগ্ধ হবে যে কেউ।

পর্যটকদের যাতায়াতে অবকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগত পর্যটকদের গাইড সুবিধাও দিতে চান তারা।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য হতেন ত্রিপুরা বলেন, ‘তুয়ারি মাইরাং নতুন ঝর্ণা। স্থানীয়রা বেড়াতে এলেও বাইরে পর্যটকরা খুব একটা আসেনি। যাতায়াতের পথ কিছুটা ঝুঁকিপুর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে রাস্তাসহ অবকাঠামো নির্মাণ করে দিলে সুবিধা হবে। পর্যটক বেড়াতে এলে গাইড সুবিধা দেয়া যাবে।

 

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর