রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

তাজমহল বন্ধ থাকায় ৬ মাসে আগ্রার পর্যটন শিল্পে ক্ষতি ২২০০ কোটি টাকা

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০২০-০৯-১২ ০০:০৪:৪৬
image

লকডাউনের দীর্ঘ স্থবিরতা কাটিয়ে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আগ্রার ধর্মীয় স্থানগুলি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। খুলবে কলেজ, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিও। খোলার তালিকায় রয়েছে তাজমহলও। নামমাত্র বিধিনিষেধ বজায় রেখে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকণ্ডের অনুমতিও মিলবে নির্ধারিত ওই দিনটি থেকে। করোনা সংকটের কারণে লকডাউনের জেরে বিগত ছ-মাস ধরে বন্ধ রয়েছে তাজমহল। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় তাজমহলের দরজা খুললেও পর্যটকের গতিবিধির উপর কিছু বিধিনিষেধ বলবত্‍‌ থাকছে। ঠিক হয়েছে দুই শিফটে ২৫০০ করে সারাদিনে ৫০০০ পর্যটককে তাজমহল দর্শনের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের মতো যেমন-খুশি পর্যটক ঢোকানোর অনুমতি আপাতত মিলবে না। 

একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকার সমীক্ষা বলছে, আগ্রায় ৬৫০ নথিভুক্ত হোটেল রয়েছে। স্বীকৃত গাইড রয়েছে ৩,৫০০। আবার নথিভুক্ত ফটোগ্রাফারের সংখ্যা ৮০০। এর বাইরে নথিভুক্তহীন গাইড ও ফটোগ্রাফারের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এতগুলো মানুষ বিগত ছ-মাস ধরে নিজেদের ভবিষ্যত্‍‌ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন, দিশা হারিয়েছিলেন। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তাজমহল পুনরায় খোলার ঘোষণায় সকলেই উত্‍‌ফুল্ল। কারণ, তাঁদের রুটি-রোজগার সবই তাজমহল কেন্দ্রিক। তাঁরা আশাবাদী, খুব শিগগির আগের অবস্থানে ফিরে যাবে এই ঐতিহাসিক নিদর্শন কেন্দ্রটি। 

সপ্তাহান্তে আগ্রার এই স্মৃতিসৌধে ২৫ থেকে ৩০ হাজার লোকের জমায়েত স্বাভাবিক ছিল। আবার পিক মরশুমে এই সংখ্যাটা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। যদি আগ্রার পর্যটনের ক্ষতির অঙ্ক কষতে বসা হয়, তা হলে করোনাভাইরাস অতিমহামারীর কারণে ছ-মাসে ক্ষতির অঙ্কটা ২,২০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু টিকিট ফি বাবদ ক্ষতি ৭২ কোটি টাকা। দাবি করা হয়েছে সমীক্ষা রিপোর্টে। 

আগ্রা টুরিস্ট ওয়েলফেয়ার চেম্বারের সম্পাদক বিশাল শর্মা বলেন, তাজমহল খুললে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য নতুন ভোরের সূচনা হবে। তবে বিদেশি পর্যটকের জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। বিশালের ধারণা, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের বিধিনিষেধও শিগগির উঠে যাবে। সেই দিনটির অপেক্ষাই তাঁরা করছেন। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু না হলে, বিদেশি পর্যটকেরা আসতেই পারবেন না। জমি জটিলতায় আগ্রায় ঘরোয়া এয়ার টার্মিনাল তৈরির কাজ থমকে রয়েছে। হাতে গোনা কয়েক জন জমি মালিক বেঁকে বসায়, প্রশাসন উদ্যোগী হয়েও ওই জমি অধিগ্রহণ করতে পারছে না। একবার আগ্রা থেকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়ে গেলে পর্যটক বাড়বে বইতো নয়। বিশালের মতে, তাজমহল খোলার সঙ্গেই আগ্রায় কিছু ব্যবসা ফিরবে। তবে, গোটা দিনে ৫০০০ হাজার পর্যটকের সংখ্যা বেঁধে দেওয়ায়, তাঁদের আপত্তি রয়েছে। তাঁর কথায়, 'পর্যটন শিল্পের কথা মাথায় রেখে বিষয়টি সরকারের পুনর্বিবেচনা করা উচিত।' 

শর্মা জানান, তাজমহল যখন বন্ধ হয়েছিল, তখন আগ্রায় মাত্র ৬ জনের করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। পরে, তাঁরা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠেন। বর্তমানে আগ্রায় কোভিড আক্রান্ত ১১৪ জন। তাঁর দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, ১৬ মার্চ তাজমহলে ৮৭০৯ পর্যটক হয়েছিল। এর মধ্যে বিদেশি ১১৪ জন। সার্কভুক্ত দেশগুলি থেকে ৫২ জন। বাকি ৭৫৩৩ জন ভারতীয়। পরদিন ১৭ মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশে তাজমহল বন্ধ হয়ে যায়। 

আগ্রার জেলাশাসক প্রভু এন সিং জানান, কিছু গাইডলাইন থাকবে। সুরক্ষার জন্য সকলকে তা মেনেই চলতে হবে। সূত্র: এই সময়।

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর