শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২০

শুভ জন্মদিন ক্ষণজন্মা নক্ষত্র সালমান শাহ

  • আব্দুল্লাহ আল হাসিব
  • ২০২০-০৯-১৯ ১৩:৫৬:২২
image
ফাইল ছবি।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র ৪৯তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে নানার বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে তার জন্ম।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১১/বি, নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার বাসার নিজ কক্ষে সালমান শাহকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেডিকেল রিপোর্টে এ নায়কের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বললেও তার পরিবার ও ভক্তদের দাবি ‘হত্যা’ করা হয়েছে সালমানকে। বিষয়টি এখনো আদালতে বিচারাধীন।

সালমানকে  হারানোর ২৪ বছর হয়ে গেল। ঢাকাই সিনেমার নায়কদের নিয়ে কথা বলতে গেলেই তার ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠবেই। চলচ্চিত্রের মানুষেরা বলেন, ‘আজও কেউ পূরণ করতে পারেননি সালমান শাহের শূন্যস্থান।’

৯০’র দশকের অন্যতম নায়ক সালমান শাহ’র প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ক্ষণজন্মা এ মহানায়ক ১৯৭১ সালে সিলেট জেলায় অবস্থিত জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মাতা নীলা চৌধুরী। তিনি পরিবারের বড় ছেলে। সালমান শাহ ১২ আগস্ট ১৯৯২ বিয়ে করেন, এবং তার স্ত্রীর নাম সামিরা।

১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল মাত্র চার বছর ছিল তার অভিনয় জীবন। এই স্বল্প সময়ে সালমান শাহর প্রাপ্তি ছিল আকাশচুম্বী। ১৯৯৩ সালে তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত মুক্তি’ পায়। একই সিনেমাতে নায়িকা মৌসুমী ও গায়ক আগুনের অভিষেক হয়। প্রথম ছবিতেই দর্শকের মনে জায়গা করে নেন সালমান শাহ।

তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে গেছেন। কেয়ামত থেকে কেয়ামত ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিনয়জীবন শুরু এবং বুকের ভেতর আগুন চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাপ্তি। নায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি ১৪টি ছবিতে জুটি বেঁধেছেন এই নায়ক।

৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার এই অভিনেতা সর্বমোট ২৭টি চলচ্চিত্র অভিনয় করেন। সালমান শাহ অভিনীত ছবিগুরোর মধ্যে রয়েছে কেয়ামত থেকে কেয়ামত, তুমি আমার, অন্তরে অন্তরে, সুজন সখী, বিক্ষোভ, স্নেহ, প্রেমযুদ্ধ, কন্যাদান, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, আঞ্জুমান, মহামিলন, আশা ভালোবাসা, বিচার হবে, এই ঘর এই সংসার, প্রিয়জন, তোমাকে চাই, স্বপ্নের পৃথিবী, সত্যের মৃত্যু নেই, জীবন সংসার, মায়ের অধিকার, চাওয়া থেকে পাওয়া, প্রেম পিয়াসী, স্বপ্নের নায়ক, শুধু তুমি, আনন্দ অশ্রু ও বুকের ভেতর আগুন।

এছাড়াও টেলিভিশনে তার অভিনীত গুটি কয়েক নাটক প্রচারিত হয়। পাশাপাশি মিল্ক ভিটা, জাগুয়ার কেডস, ইস্পাহানি গোল্ড, স্টার টি, কোকাকোলা, ফানটাসহ কয়েকটি পণ্যের বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয়ও করেছেন এই নায়ক।

নক্ষত্রেরও পতন হয়, সবার প্রিয় নায়ক সালমান শাহর পতনটা হয়তো এভাবে না হলেই ভালো হতো। আজও সালমান যেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত সেখানে তার ভক্তরা নীরবে চোখের জল ফেলেন। আজও টেলিভিশনের পর্দায় তার অভিনীত ছবি প্রদর্শন হলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন দর্শকরা। ঢালিউডের ইতিহাসে অনেক নায়কই অতীতে অকালে মারা গেছেন। কিন্তু মৃত্যুর ২৪ বছর পরও এত জনপ্রিয়তা আর কোনো নায়কের আছে কী না তাতে সন্দেহ আছে যথেষ্ট।

বাংলা সিনেমা যতদিন বেঁচে থাকবে, বেঁচে থাকবে সিনেমাপ্রেমীরা; ততদিন বেঁচে থাকবেন সালমান শাহও। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ পর্যন্ত সিনেমাপ্রেমীরা সালমান শাহকে ভালবেসে যাবে তা অকপটেই বলা যায়।

 


এশিয়ান টাইমস্/ এএসএস


এ জাতীয় আরো খবর