বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

পাহাড়ে জনপ্রিয় হচ্ছে রেড লেডি পেপে

  • আবুল হাসেম, খাগড়াছড়ি
  • ২০২০-০৯-৩০ ১১:৩৪:৫৩
image

আঁকা বাঁকা মেঠোপথ চারদিক যেন ঘন সবুজ ঢেউ তোলা পাহাড়, নিরিবিলি নির্জন, যে দিকে তাকাই শুধু সবুজের সমারোহ, যেতে যেতে দুর থেকে কাঠ দিয়ে ঘেরায় নির্মিত দৃষ্টিনন্দন একটি কর্টেজ দেখা যাচ্ছে ,যেখানে চলছে মৌসুমে উৎপাদিত পণ্যের পেকেটজাত।

স্থানটি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার রসুলপুর। মাটিরাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেলে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে 'তরুছায়া এ্যাগ্রো' নামে কৃষি খামারটি প্রতিষ্ঠা করেন প্রকৃতিপ্রেমি কৃষি উদ্যোক্তা মো.শাহেদ আয়াত উল্যাহ খাঁন। তার বাড়ি চট্রগ্রামের কাজির দৈরি।

এ গ্রামে পেঁপে চাষে সাফল্যের বীজ বুনেছেন তিনি। নিজের প্রায় ১০ একর পাহাড়ি ভূমিতে গড়ে তোলেন এ পেঁপের বাগান। যেখানে সারি সারি পেঁপে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের পেঁপে। স্বল্প পরিসরে পেঁপে চাষের পাশাপাশি কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, আম গাছ আছে ওই বাগানে।

বিদেশি জাতের পেঁপে ‘রেডলেডি’ চাষ করেন তিনি। এই জাতের পেঁপে চাষে পাহাড়ে ইতিমধ্যে ভাগ্য খুলেছে অনেকের। পাশাপাশি অনেকের কর্মসংস্থানও হয়েছে। বাজার ভেদে প্রতি কেজি পেঁপে ৩৫ টাকা থেকে ৪২ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। দৈনিক বিক্রির হিসাব দিতে না পারলেও মোট ৪০ থেকে ৫০ টন পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে লক্ষমাত্রা নির্ণয় করেন তিনি। বার্ষিক প্রায় ২০ লক্ষ টাকার পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন শাহেদ।

চট্টগ্রাম, ফেনীতে নিয়ে পাইকারি দরে পেঁপে বিক্রি করা হয়। আবার অনেক পাইকাররা বাগান থেকে সরাসরি পেঁপে ক্রয় করে থাকেন।

বাগানের তত্ত্বাবধায়ক মো.জাহাঙ্গীর জানান, বাগানে পেঁপে গাছের চারা রোপণের সময় পরিমাণমতো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হলেও এখন জৈব সারই ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রতিদিন ৪ জন শ্রমিকসহ বাগানে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে গড়ে ১০ জন শ্রমিক কাজ করে। ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপের আবাদ শুরু হয় ১বছর পূর্বে থেকে।

স্ব উদ্যোগে চাষাবাদ শুরু করলেও মাটিরাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় বাগানের পরিচর্যা হয়।

তিনি মূলত চটগ্রাম থেকে 'রেডলেডি' জাতের পেঁপের চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। বর্তমানে বাগানে প্রায় গাছ থেকে হারভেস্টিং এর কাজ চলছে।

স্থানীয় বাজারে পাকা পেঁপে গড়ে কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। কাঁচা ও পাকা উভয় প্রক্রিয়াতেই বাজারজাত করা যায়। আধা পাকা পেঁপে খুব সহজে নষ্ট হয় না বলে বাজারজাত করা সহজ। এ জাতের পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস রোগ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। এ জাতের পেঁপে গাছের আয়ুষ্কাল ২ বছরের বেশি।

কৃষক ও উদ্যোক্তা মো.শাহেদ আয়াত উল্যাহ খাঁন জানান, অত্র এলাকাতে অনেক কৃষক ইতিমধ্যে পেঁপে চাষে সফলতা পেয়েছেন, এরই ধারাবাহিকতায় আমি পেঁপে চাষে আগ্রহী হই। এ চাষ স্বল্প মেয়াদি এবং লাভজনক। তবে সময়মতো প্রচুর জৈব সার ও পানি দিলে গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠে ও ফলন বেশ ভাল হয়। তবে সঠিক সময়ে বিপননের অভাবে ফল নষ্ট হয়ে যায়। পার্বত্য এলাকায় বিপণন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়া উচিত। সমতল অঞ্চলে বাজারজাত করা গেলে স্থানীয় কৃষক পেঁপে চাষে আরও আগ্রহী হবে। রেডলেডি জাতের পেঁপে পাহাড়ে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো.মাসুম ভুইয়া জানান, উপযুক্ত পরিবেশ ও পাহাড়ের ঢালু জমিতে এ জাতের পেঁপে চাষ বেশ উপযোগী। সাইট্রাস জাতীয় ফলের বাগানের পাশাপাশি এ জাতের পেঁপে চাষ করা যায়। রেড লেডি পেঁপে ফলন ভাল ও সাইজে বড় হয়, কম সময়ে অধিক লাভ জনক বিধায় এ জাতের পেঁপে চাষে কৃষকের আগ্রহ বেশী। তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির এ পেঁপে চারা রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ৭-৯ মাসের মধ্যে প্রথম ফল পাওয়া যায়। লাল-সবুজ রঙের প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় দেড়-দুই কেজি। খেতে সুমিষ্ট সুগন্ধিযুক্ত বিধায় মাঠ পর্যায়ে এই জাতের সম্প্রসারণে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।


 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর