বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

মাটিরাঙ্গায় নতুন ঝর্ণার সন্ধান

  • আবুল হাসেম, খাগড়াছড়ি
  • ২০২০-০৯-৩০ ১৮:২৫:১৯
image

পর্যটনের অপার সম্ভাবনা ও বৈচিত্রময় সবুজ অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ি জনপদ মাটিরাঙ্গা। দেশের যেকোন অঞ্চল থেকে এ জনপদকে একটু আলাদা ভাবতে হবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে দেশের এ পাহাড়ী এলাকাসমূহ পর্যটকদের কাছে দিনের পর দিন দারুণ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গার দুর্গম জনপদ কাতালমনি পাড়ায় সন্ধান মিলেছে ‘তৈলাফাং ঝর্ণা’। ৫০ ফুট উপর থেকে পাহাড়ের ঘা ঘেঁষে আঁচড়ে পড়ছে তৈলাফাং ঝর্ণার পানি। যা ইতোমধ্যে পাহাড়ের পর্যটকদের কাছে সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে।

অতি দুর্গম পথ হলেও অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ নিতে ‘তৈলাফাং ঝর্ণা’ দেখতে দুর্গম পথ পাড়ি দিচ্ছেন স্থানীয় পর্যটকরা।

তাইন্দং থেকে ঘুরতে আসা মো.মনির হোসেন জানায়, এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানো গেলে তৈলাফাং ঝর্ণা হয়ে উঠতে পারে পাহাড়ের অন্যতম আকর্ষন। স্থানীয় পর্যটকদের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকদেরও নজর কাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মাহিন্দ্র, পিকআপ ও মোটরসাইকেল যোগে মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি হয়ে তৈলাফাং ঝর্ণায় যাওয়া যায়। পানছড়ি- তবলছড়ি সড়কে প্রিন্সিপালের বাগান হয়ে কাতালমনি পাড়া- ভাইবোনছড়া সংযোগ সড়কে নামতে হবে। এখান থেকে কাতালমনি পাড়ার দূরত্ব প্রায় প্রায় ৬ কিলোমিটার। শুকনো আবহাওয়ায় মোটরসাইকেল যোগে ৪ কিলোমিটারের বেশি পাড়ি দেয়া যাবে। পিচঢালা সড়ক থেকে হেঁটে ঝর্ণায় পৌঁছাতে ঘণ্টা দুই সময় লাগতে পারে। সংযোগ সড়ক থেকে কাঁচা মেঠোপথ ধরে বৌদ্ধবিহার এলাকায় গিয়ে কাউকে জিজ্ঞেস করলে তৈলাফাং ঝর্ণায় নামার পথ দেখিয়ে দিবে। ঝর্ণায় যাওয়ার পথে দূর পাহাড়ে লেবু, কচু, সেগুন বাগান ও জুমের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হবেন যেকোন পর্যটক।

 

 

উঁচু পাহাড় থেকে গাছ ও লতাপাতা অবলম্বন করে ভয়কে জয় করে নিচে নামলেই দেখা মিলবে কাঙ্খিত  ‘তৈলাফাং ঝর্ণা’র। তৈলাফাং ঝর্ণার ঠিক বিপরীতে একটু উপরের রাস্তা পেরিয়ে পাথুরে জঙ্গলের শেষে দেখা মিলবে ছোট-বড় আরো দুটি ঝিরি-ঝর্ণা। ঝিরির দুই পাশেই উঁচু পাথুরে মতো পাহাড়। আছে বড় বড় পাথরখণ্ড। পাথুরে দেয়াল বেয়ে নামছে জলধারা।

তৈলাফাং ঝর্ণায় ঘুরতে আসা ফরহাদ হোসেন জানায়, তৈলাফাং ঝর্ণায় পৌঁছানো ভয়ঙ্কর হলেও অ্যাডভেঞ্জারপ্রেমীদের কাছে এটি হতে পারে অত্যন্ত আকর্ষনীয়। যাদের পাহাড় ঝর্ণা ভালো লাগে তারা নি:সন্দেহে তৈলাফাং ঝর্ণা উপভোগ করবেন। 

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তৈলাফাং ঝর্ণা ঘুরে আসা উপ সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষন কর্মকর্তা অরুনাঙ্কর চাকমা বলেন, তৈলাফাং ঝর্ণার যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই ঝুঁকিপুর্ণ। সরকারের পক্ষ থেকে যোগযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নসহ পরিকল্পিত অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে এ ঝর্ণা পাহাড়ের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির থকে সুগম করবে। একই সাথে স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে।

মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৃলা দেব বলেন, স্থানীয় পর্যটন খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব  দিয়ে মাটিরাঙ্গার তৈলাফাং ঝর্ণাকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহনের কথা জানান।

তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করে পর্যটন স্পট সম্ভাবনা যাচাই করে তৈলাফাং ঝর্ণায় যাতায়াতের জন্য সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর