বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২২, ২০২০

মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ধ্বংস করে দিলো শিক্ষা বোর্ড

  • মোস্তাফিজুর রহমান, বাঘা (রাজশাহী)
  • ২০২০-১০-১৩ ২১:২২:৫৪
image
ছবি: মুস্তারী জাহান।

২০০৪ সালে রাজশাহীর বাঘার তেঁথুলিয়া বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন মুস্তারী জাহান নামে এক শিক্ষার্থী কিন্তু তার রেজাল্ট আসে ২ সাবজেক্ট এ অকৃতকার্য। 

যে সাবজেক্ট দুটুই অকৃতকার্য আসে সেই সাবজেক্ট দুটো টেষ্ট পরীক্ষায় পেয়েছিলো ৯০ মার্কের উপরে। এসএসসি পরীক্ষার দেয় অনেক ভাল।

যেখানে তার জিপিএ ৫ পাওয়ার কথা সেখানে তার রেজাল্ট আসে অকৃতকার্যদের তালিকায়। এ বিষয়টি মুস্তারী জাহান মেনে নিতে না পেরে তিনি বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে কিন্তু সেখানেও তার রেজাল্ট আসে অকৃতকার্য। 

মুস্তারী জাহানের আত্ম বিশ্বাসের উপর তিনি বোর্ড এর কাছে তার নিজ খাতা দেখতে চান কিন্তু বোর্ড তাকে খাতা দেখাতে না চাওয়াই মুস্তারী জাহান নাবালিকা হওয়ায় তার পক্ষে ১ নভেম্বর রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন তার বাবা মুনসুর রহমান। এতে বিবাদি করা হয় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবকে।

আগামী ১ নভেম্বর মামলাটি ১৭ বছরে পড়বে। ২০ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে।

কথা বলছি, রাজশাহীর বাঘা উপজেলার তেঁথুলিয়া গ্রামের মুনসুর রহমানের মেয়ে মুস্তারী জাহানের। ২০০৪ সালে মুস্তারী জাহান  বিদ্যালয়ের নির্বাচনী পরীক্ষায় ৮৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাস করেন। ওপরের কভার ঠিক রেখে উত্তরপত্র বদল করার কারণে তাঁর ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফল অকৃতকার্য এসেছে।

মুস্তারীর বাবা মুনসুর রহমান জানান, মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত উত্তরপত্র হাজির করার নির্দেশ দেন। আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উত্তরপত্র নষ্ট না করার ব্যাপারেও আদেশ দেন।

তবে এ শিক্ষার্থীর খাতার ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু না বলায় ২০১১ সালের ২১ জুন আদালত বোর্ডের চেয়ারম্যানকে পরবর্তী ধার্য দিনে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। চেয়ারম্যান সশরীরে হাজির হতে পাঁচ বছর সময় নেন। তারপরও খাতা দেখানো হয়নি। তাই উচ্চ আদালত রাজশাহী কোর্টে মামলাটি পাঠিয়ে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির নির্দেশ দেই। এরপর বাদীপক্ষ ৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। 

এখন মুস্তারী জাহান সাবালিকা হওয়ার পর মামলাটির বাদি তিনি নিজেই। মুস্তারী জাহান জানান, মামলা করার পরের বছর ওই কেন্দ্রের শিক্ষক দিয়ে তাঁকে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিতে বাধা দেওয়া হয়। কোনো উপায় না দেখে রসায়ন পরীক্ষার আগে বিষয়টি ইউএনওকে জানান তিনি। ইউএনও তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রের বারান্দায় একা একটি বেঞ্চে বসিয়ে, নিজে সেই স্থানে বসে থেকে আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

মুস্তারী দাবি করেন, খারাপ শিক্ষার্থী প্রমাণ করার জন্য পরেরবারও তার উত্তরপত্র পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। ফলে তার ফলাফল আবার খারাপ হয়। তিনি কোনোমতে পাস করেন।

মুস্তারী জাহান এর বাবা ও মা বলেন,আমার মেয়ের সাথে যে ঘটনা ঘটেছে এমন ঘটনা যেন আর কোন শিক্ষার্থীর সাথে না ঘটে।

তিনি বলেন, তার জীবনের অপূরণীয় ক্ষতি করা হয়েছে। তবে তিনি এই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান, যাতে আর কোনো শিক্ষার্থীর জীবনে এ অভিশাপ না নেমে আসে।

 


এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর