শনিবার, জানুয়ারী ১৬, ২০২১

মাটিরাঙ্গায় রাতের আধারে চলছে পাহাড় কাটার মহোৎসব

  • আবুল হাসেম, খাগড়াছড়ি
  • ২০২১-০১-০৭ ২১:৩৫:২৭
image

খাগড়াছড়িতে পরিবেশ আইন না মেনে দেদারছে চলছে পাহাড় কাটা। বাড়ি নির্মাণ, রাস্তা সংষ্কার এবং ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের জন্য পাহাড় কাটছে একটি চক্র। পাহাড়ের মাটি কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছে পাহাড় খেকোরা। দিনের আলোয় পাহাড় কাটার মহোৎসব চললেও প্রশাসন কার্যকর কোন ব্যবস্থা না নেওয়া ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পরিবেশ কর্মীরা।

গত কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িসহ তিন পার্বত্য জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানী ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। বিনা বাধায় পাহাড় খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পরিবেশ সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন করে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় পুরো পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিয়েছে নাছির ওরফে ইতালি নাছির নামে এক ব্যক্তি। মাটিরাঙা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ মুসলিম পাড়ায় প্রায় ৫ একর আয়তনে একটি পাহাড় কেটে সাবাড় করে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে রাতের আঁধারে পুরো কাটছে তিনি। এসব পাহাড়ে মাটি চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রশাসনের নজর ফাঁকি দিতে প্রতি রাতে চলে পাহাড় কর্তন। সারা রাত ধরে চলে মাটি পরিবহন।

সোমবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘বুলডেজার দিয়ে পুরোটা পাহাড়ে উপরিভাগ কয়েকটি লেয়ারে কাটা হয়েছে। পাহাড়ে কোথাও সবুজের চিহ্ন মাত্র নেই। পাহাড়ের কাটা মাটি পড়ে আশপাশের জলাশয়ও ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েক লক্ষ ঘণফুট মাটি কাটা সাবাড়। নতুন করে আরো এক লেয়ারে অর্ধেক কাটার কাজ শেষ। এসব মাটি বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়।’

স্থানীয়রা জানান, ‘পাহাড়টি ইতালি নাসির কিনেছে। এরপর থেকে গাছপালা কেটে মাটি বিক্রি শুরু করেছে। রাতের আঁধারে বুলডেজার দিয়ে এখানে মাটি কাটা হয়। রাতেই তো পরিবহন করে। দিনের বেলায় মাটি কর্তন ও পরিবহন কাজ বন্ধ থাকে। প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলছে না। তবে কয়েকজন জানান পাহাড় কাটা ক্ষতি। কিন্ত আমরা কিছু বলবে এলাকায় থাকতে পারব না।’

নির্বিচারে পাহাড় কাটায় সাইফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এই নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ‘মাটিরাঙার ৯ নং ওয়ার্ডে প্রতিরাতে প্রভাবশালী একটি মহল বুলডেজার ও স্কেভেটর দিয়ে অবাধে পাহাড় কেটে তা ট্রাকে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছে। রাত ১১টার পর পাহাড় কাটা শুরু করে আজানের আগেই শেষ করে। এসব পাহাড় কাটায় একটি সিন্ডিকেট জড়িত বলে অভিযোগ করেছে তিনি।’

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী জানান, ‘অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটার কারণে বর্ষায় পার্বত্য জেলায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। প্রশাসনিক ভাবে পাহাড় কাটা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় দেদারছে পাহাড় কাটা চলছে। অবিলম্বে তাদের অপতৎপরতা বন্ধ করা না গেলে ভয়াবহ পরিবেশ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।’

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড় কাটা মুলহোতা নাছির ওরফে ইতালি নাছির পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পাহাড়ে কিছু গর্জন, গামারী, মেহগনি এবং কয়েকটা সেগুন গাছ ছিল। গাছ কাটার পর মাটি কেটে সমান করেছি। কাটা পাহাড়ে আমি পেঁপে চাষ করব। তবে রাতের আঁধারে পাহাড়ে বুলডেজার দিয়ে মাটি কেন কাটা হয় সেই বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি তিনি।

মাটিরাঙা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৃলা দেব জানান, ‘পাহাড় কাটার বিষয়টি আমরা জানতে অভিযান চালিয়েছি। কিন্ত এসময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় জরিমানা করতে পারি নাই।’

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর