বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২১, ২০২১

উখিয়ায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার অভিযোগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার
  • ২০২১-০১-০৯ ১৭:০২:৫৪
image

ইয়াবা নিয়ে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে মূল গডফাদাররা। সম্প্রতি গত ২১ ডিসেম্বর ২০২০ ইং তারিখে উখিয়া রাজাপালং এর হরিণমারা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ হাসেমকে ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক করেছে র‍্যাব-১৫। 

হাসেম আটক হওয়ার পর তার মা মমতাজ বেগম তার ছেলেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবী করে ৯ জানুয়ারি সাংবাদিকদের জানান, তার ছেলে নির্দোষ। ওই ইয়াবার প্রকৃত মালিক স্থানীয় হরিণমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুল মালেক। সে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী গ্রামের ছাবের আহমেদ এর ছেলে। 

জানা যায়, আবদুল মালেক শিক্ষকতা পেশার আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। সে হাসেম এর মতো আরও কয়েকজন হতদরিদ্র পরিবারের সন্তানদের ইয়াবা পরিবহনের কাজে টাকার বিনিময়ে নিযুক্ত করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছিলো। সর্বশেষ গত ২১ ডিসেম্বর উখিয়া রাজাপালং ইউনিয়নের হরিণমারা গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান মোঃ হাসেম ১০ হাজার ইয়াবাসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলে ওই হাসেম উক্ত ইয়াবার মালিক মাস্টার আবদুল মালেক বলে জানান। 

এব্যাপারে অনুসন্ধান করা হলে হাসেম এর মা মমতাজ বেগম এ প্রতিবেদককে জানান, মালেক মাষ্টার এর নির্দেশেই হরিণ মারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আমার ছেলে মোঃ হাসেম ১০ হাজার ইয়াবা নিয়ে মালেক মাস্টার এর সামনে উপস্থিত হয়। হাসেম ঘটনাস্থলে পৌছে দেখে হাতকড়া পড়া অবস্থায় মালেক মাস্টার সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। হাসেম আসার পরে মালেক মাস্টার এর হাত থেকে হাতকড়া খোলে হাসেম এর হাতে পড়ানো হয়। তখন হাসেম র‍্যাবের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন, ওই ইয়াবার মালিক মালেক মাস্টার বলে র‍্যাবের কাছে জানানো সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে মালেক মাস্টারকে ছেড়ে দেয়া হয়। আর হাসেমকে নিয়ে চলে যান র‍্যাব সদস্যরা। এ ঘটনায় হাসেম এর বিরুদ্ধে মামলা হলেও আব্দুল মালেক মাস্টার রয়ে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।  

এ সংক্রান্ত বিষয়ে হাসেম এর মা মমতাজ বেগম মালেক মাস্টার এর কাছে গিয়ে তার ছেলেকে কেন র‍্যাবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে মালেক মাস্টার বলেন, কোন অসুবিধা নেই আমি তোমার ছেলের জামিন নেব। যতদিন পর্যন্ত হাসেম জেলে থাকবে ততদিন তোমাদের ভরনপোষণের দায়িত্ব আমি নেব। 

এবিষয়ে ফোনে আবদুল মালেক মাস্টার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে এটি চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র। অনেকে আমার কাছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছেন, আমি তাদেরকে যথাযথ জবাব দিয়েছি। হাসেম ধরা পড়া এবং ইয়াবা উদ্ধার হওয়া আমি কিছুই জানি না। আমি একজন শিক্ষক আমার কাজ শিক্ষকতা, ইয়াবা ব্যবসা নই। যারা আমাকে ইয়াবা গডফাদার বানিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন তারা মূলত আমার প্রতি পক্ষ।   

এদিকে, ধৃত হাসেম এর স্ত্রী রোজিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীর মামলা পরিচালনা থেকে শুরু করে আমাদের ভরণপোষণের যাবতীয় দায়িত্ব মাস্টার আব্দুল মালেক পালন করবেন বলে তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। যতদিন পর্যন্ত হাসেম জেল থেকে ছাড়া না পাচ্ছে। 

এ ব্যাপারে র‍্যাব -১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী বলেন, আমরা হাসেম এর হাতেনাতে ১০ হাজার ইয়াবা পেয়েছি এবং তাকে সেভাবে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। বাদবাকি বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখবেন। হাসেম এর মা মমতাজ বেগম এবং স্ত্রী রোজিনা আক্তারের বক্তব্য আমাদের কাছে গুরুত্বহীন, তবে তাদের যদি কোন বক্তব্য থাকে তা তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কোর্টে গিয়ে বলতে পারবেন। মাস্টার আবদুল মালেক এ বিষয়ে জড়িত থাকলে তা প্রমাণ করার দায়িত্ব হাসেম এর পরিবারের। 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর