শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০

আমিরাতের মঙ্গল মিশনের নেতৃত্বে যে নারী

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০২০-০৭-১৬ ২২:৩২:২২
image

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এ সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম যুক্ত হবে মঙ্গলগ্রহে অভিযানে। মঙ্গলগ্রহে অভিযান চালাতে তাদের প্রথম স্যাটেলাইট পাঠাবে দেশটি। যে অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘হোপ মিশন’। মঙ্গল অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম শুনে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তবে তার চেয়েও অবাক করা ঘটনা একটি আরব দেশে একজন নারীর এরকম একটি মহাকাশ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো একটি ক্ষুদ্র উপসাগরীয় দেশের জন্য এটি হবে এক অভাবনীয় সাফল্য। আর এই সাফল্যের পেছনের রূপকার এক নারী। তার নাম সারাহ আল-আমিরি।

সারাহ আল-আমিরি ‘হোপ মিশনের’ বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান। একই সঙ্গে তিনি দেশটির এডভান্সড সায়েন্স বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এই নবীন বিজ্ঞানী এরই মধ্যে আরব বিশ্বের নারীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন।

কে এই সারাহ আল-আমিরি?

১৯৮৭ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে তার জন্ম। বয়স মাত্র ৩২। কিন্তু মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলেন একেবারে ছোটবেলা থেকে।

বিবিসির আরবী বিভাগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বর্ণনা করেছেন তার শৈশবের সেই স্বপ্নের কথা। তখন তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর।

তিনি বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল মহাকাশ থেকে আমি পৃথিবীকে দেখবো। কিন্তু আমাকে সব সময় শুনতে হতো এটা অসম্ভব। আমি যখন বলতাম আমি মহাকাশ নিয়ে কাজ করতে চাই, তখন লোকে ভাবতো আমি বুঝি কোন কল্পজগতে বাস করি।

সারাহ আল-আমিরি পড়াশোনা করেছেন কম্পিউটার সায়েন্সে, আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব শারজাহতে। তার বরাবরই আগ্রহ ছিল এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার। কিন্তু তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের কোন মহাকাশ কর্মসূচীই ছিল না।

আরো পড়ুন- গভীর রাতে দুই মৎস্যজীবীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

পড়াশোনা শেষে তিনি যোগ দেন এমিরেটস ইনস্টিটিউশন ফর এডভান্সড সায়েন্স এন্ড টেকনোলজিতে। সেখানে তিনি কাজ করেছেন দুবাইস্যাট-১ এবং দুবাইস্যাট-২ প্রকল্পে। ইউএই‌’র পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে যোগ দেন এরপর। ২০১৬ সালে তাকে এমিরেটস সায়েন্স কাউন্সিলের প্রধান করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মঙ্গল অভিযানের শুরু থেকে এর সঙ্গে জড়িত তিনি। এখন এই মিশনের বৈজ্ঞানিক দলের প্রধান। ২০১৭ সালে তাকে একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডভান্সড সায়েন্স বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই অভিযানের রূপকার সারাহ আল-আমিরি এখন তার স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় ক্ষণ গুনছেন।

বিবিসি-কে তিনি বলেন, আমি খুবই নার্ভাস বোধ করছি। এই অভিযানের জন্য আমরা সাড়ে ছয় বছর ধরে কাজ করেছি। মহাকাশের যে বিশালত্ব, এটিকে জানা এবং বোঝা যেরকম জটিল, সেটা আমাকে মোহিত করেছিল। এই মহাকাশযান নিয়ে আমরা পরীক্ষার পর পরীক্ষা চালিয়েছি, যাতে সব ধরণের পরিস্থিতিতে এটা টিকে থাকে। এখন আমাদের এসব কাজের ফসল এখন একটি লঞ্চপ্যাডে একটি রকেটের ওপর বসে আছে। এটি যাবে এমন এক গ্রহে, যে গ্রহটি আমাদের কাছ থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে।

আরো পড়ুন- মডেল গণধর্ষণের সহায়তার অভিযোগে যুব মহিলা লীগের নেত্রীসহ আটক ২

সংযুক্ত আরব আমিরাতের মহাকাশ অভিযানের কোন অভিজ্ঞতাই নেই। এক্ষেত্রে তারা একেবারেই নতুন। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত দেখাতে চাইছে, তাদের দেশের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে এমন বড় চ্যালেঞ্জ নেয়ার ক্ষমতা তাদের আছে।  

এর আগে জানানো হয়েছিল বুধবার (১৫ জুলাই) সূর্যোদয়ের দেশে জাপানের তেনেগাসিমা স্পেস কেন্দ্র থেকে এইচ-২ রকেটে করে মঙ্গলের পথে যাত্রা করতে আরব আমিরাত। কিন্তু অনুকূল আবহাওয়া না পাওয়ায় পূর্ব নির্ধারিত এই অভিযান থেকে সরে আসে কর্তৃপক্ষ। এরপরই নতুন দিনক্ষণ ঠিক করে জানানো হয়, আগামী শুক্রবার জাপানের স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৪৩ মিনিটে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সময় মানদণ্ডে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪৩ মিনিটে মঙ্গলের উদ্দেশ্যে পৃথিবী ছাড়বে আরব আমিরাতে মঙ্গলযান 'হোপ'। 

জাপানের দুর্গম তানেগাশিমা মহাকাশ বন্দর থেকে রকেটের মাধ্যমে এটি উৎক্ষেপণ করা হবে। প্রায় ৫০০ মিলিয়ন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এই রোবটিক মহাকাশযানটি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার গন্তব্যে পৌঁছাবে। ঐ একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত তার ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে বলে কথা রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মঙ্গলগ্রহ একসময় পৃথিবীর মতোই সাগর আর নদীতে আবৃত ছিল। যদি মঙ্গলের পরিমন্ডল পর্যবেক্ষণ করা যায়, তাহলে কিভাবে এটি এখন এক শুষ্ক এবং রুক্ষ গ্রহে পরিণত হলো, সেটার ক্লু হয়তো পাওয়া যাবে। হোপ মিশন মূলত মঙ্গলগ্রহের জলবায়ু এবং আবহাওয়া নিয়ে কাজ করবে। তার বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের একটা প্রধান লক্ষ্য হবে, মঙ্গলগ্রহ কিভাবে একটি রুক্ষ ধূলিধুসর গ্রহে পরিণত হলো, সেটি জানা।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইউরোপ আর ভারতের মতো কিছু দেশ, যারা মঙ্গলগ্রহে সফল মহাকাশ অভিযান পাঠাতে পেরেছে। সূত্র: বিবিসি।

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর