রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২০

পর্যটন খুলে দিলো নেপাল

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২০২০-০৭-২৪ ০১:২৫:২৬
image

চার মাস পরে গত মঙ্গলবার লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে নেপালে। পাশাপাশি দেশটির পর্যটন খাতও খুলে দেয়া হয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো সঠিক কোন দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী যুবরাজ খতিওয়াদা।

তিনি বলেন, ‘আসন্ন শরৎকালের পর্যটন মরসুম যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত।’ সরকার আশা করে যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভ্রমণ বাণিজ্য উদ্যোক্তারা আসন্ন পর্যটন মরসুমের জন্য বুকিং শুরু করতে পারবেন। আগামী ১ আগস্ট থেকে নেপালে সমস্ত আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় বিমান চলাচল আবার শুরু হবে। পাশাপাশি সরকার ৩০ জুলাই থেকে হোটেল, রেস্তোঁরাসহ ট্রেকিং এবং পর্বতারোহণ কার্যক্রম চালু করার অনুমতি দিয়েছে। তবে সরকার হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় অবাক হয়েছেন পর্যটন উদ্যোক্তারা। নেপালে কয়েকটি হোটেলের মালিক যোগেন্দ্র শাক্য বলেন, ‘এটি আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি দ্রুত হয়েছে।’ চার দশক ধরে এই ব্যবসায়ে থাকা শাক্য বলেন, ‘এখন বড় প্রশ্ন হলো কী ধরণের সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হবে, যাতে পর্যটকরাও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।’

এ বিষয়ে নেপালের বন্যজীবনের পর্যটনের পথিকৃৎ বসন্ত রাজ মিশ্র বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাব। ঝুঁকি থাকলেও যদি সবকিছু ঠিকমতো চলে, তবে তার সাথে সকলের উপকারে আসবে। কিন্তু, সবকিছু ঠিকঠাক না চলারও সমান সম্ভাবনা রয়েছে। মিশ্র ও শাক্য উভয়ই সম্মত হন যে সম্ভাব্য পর্যটকদের পাশাপাশি বিশ্ব ভ্রমণকারীদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা মূল বিষয়।

 

 

নেপালের আয়ের অন্যতম খাত হচ্ছে পর্যটন ব্যবসা। দেশটিতে বছরে প্রায় ১২ লাখ পর্যটক ভ্রমণ করেন। এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই যান সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত শরত মরসুমে। এ সময়ে এভারেস্টের মতো বড় পর্বতমালায় অল্প সংখ্যক আরোহী গেলেও ছোট শৃঙ্গগুলোতে প্রচুর আরোহী ভিড় করেন।

শাক্য বলেন, ‘একটি সাধারণ ধারণা রয়েছে যে খুব বেশি বাধা থাকলে পর্যটকরা আসবে না এবং খুব বেশি স্বাধীনতা থাকলেও তারা আসবে না।’ তিনি বলেন, ‘নেপালে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় তরঙ্গ দেখা যায়নি। তবে আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। আমরা যদি দর্শনার্থীদের বোঝাতে ব্যর্থ হই, তবে সামনে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে এটি আমাদের জন্য পর্যটন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করারও একটি সুযোগ।’ মিশ্রের মতে, পর্যটকরা নেপাল ভ্রমণে আগ্রহী এবং সবাই প্রত্যাশা করে যে, ২০ শতাংশ বুকিং যেগুলি লকডাউনের সময় বাতিল হয়নি, তা পূরণ হবে।

প্রথমদিকে যখন লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন পর্যটন উদ্যোক্তারা এই প্রভাবটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের প্রভাব থেকেও অনেক খারাপ হওয়ার অনুমান করেছিলেন। যার পরে ভারত বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ভ্রমণ বাণিজ্য উদ্যোক্তারা বলছেন যে, কোভিড-১৯ এর প্রভাবের কারণে এই খাতে কমপক্ষে ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকার অনুমান করেছিল যে, চার মাসে নেপালের ৪০ বিলিয়ন রুপি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

শাক্য বলেন, ‘পর্যটকরা ইতোমধ্যে নেপালের অবস্থান সম্পর্কে অনুসন্ধান শুরু করেছেন। তাদের প্রশ্নগুলো হচ্ছে, পর্যটকদের কি ‘পিসিআর’ পরীক্ষা করতে হবে? পার্বত্য গ্রামগুলিতে কি তাদের স্বাগত জানানো হবে? তারা সংক্রামিত হলে কোথায় যাবেন এবং কি কি প্রক্রিয়া এবং প্রোটোকল রয়েছে? তিনি আরও যোগ করেন, ‘পর্যটকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এই প্রশ্নগুলির সমাধান করা দরকার।’

যদিও নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং ট্রেকিং, হোটেল ও রেস্তোঁরাগুলির জন্য অপারেশনাল প্রোটোকলগুলির খসড়া তৈরি করেছে। নেপালের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষও এয়ারলাইনস এবং বিমানবন্দরগুলির জন্য অপারেশন প্রোটোকল কার্যকর করেছে।

নেপালের ট্র্যাকিং এজেন্সি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খুম বাহাদুর সুবেদী মনে করেন, সাধারণত বিদেশী বাজারগুলিতে প্রচারমূলক কর্মকান্ডে ব্যয় করা বোর্ডকে এখন সম্ভাব্য দর্শনার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা অবকাঠামোয় ব্যয় করতে হবে। তিনি পর্যটকদের ভাইরাসে সংক্রামিত হলে তাদের চিকিৎসার জন্য ক্লিনিক স্থাপনের প্রস্তাব করেছিলেন। খবর- কাটমুণ্ডু পোস্ট।

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর