বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২০

জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্বোধনের অপেক্ষায় আয়া সোফিয়া

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২০-০৭-২৪ ০১:৪৮:২৯
image

৮৬ বছর জাদুঘর হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে চালু হতে যাচ্ছে ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক স্থাপনা আয়া সোফিয়া। শুক্রবারের জুমার নামাজের মধ্য দিয়ে এটি মসজিদ হিসেবে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে।

এ উপলক্ষে শুধু তুর্কিরা নয় বরং সারা বিশ্বের মুসলমানদের মধ্যেই অন্যরকম এক অনুভূতি কাজ করছে। ইস্তাম্বুলের ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে পুনরায় মসজিদ হিসেবে চালু করতে ব্যাপক জাঁকজমক পূর্ণ আয়োজন করেছে কতৃপক্ষ।

সামাজিক দূরত্ব ও ইসলামী বিধি উভয় মেনেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ইস্তাম্বুল দুর্দান্ত উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইস্তাম্বুলের গভর্নর আলী ইয়ারলিকায়া বৃহস্পতিবার বলেন, "আমরা জানি যে আমাদের দর্শনার্থীদের আয়া সোফিয়ায় নামাজ আদায় করা সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা"। এই চাহিদাটি সঠিকভাবে মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ইয়ারলিকায়া বলেন, মসজিদটি সকাল ১০টায় দর্শণার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে এবং পরেরদিন সকাল পর্যন্ত খোলা থাকবে। যাতে প্রত্যেকেই নামাজের জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।

তিনি আরো বলেন, প্রচণ্ড ভীড়ের জন্যে নামাজ আদায়ের পাঁচটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে যার মধ্যে দুইটি নারীদের।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, সামাজিক দূরত্বের নিয়ম লঙ্ঘন না করে প্রত্যেককে নামাজ আদায়ের জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সরকারি বরাতে জানা গেছে, ১১ চেক পয়েন্ট দিয়ে কঠোর নিরাপত্তার সাথে সেখানে প্রবেশ করতে হবে।

ইয়ারলিকায়া বলেন, দ্রুত ও সহজে মসজিদে প্রবেশের জন্য আমরা দর্শণার্থীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছি তারা যেন কোন ধরণের ব্যাগ না নিয়ে আসেন।

গভর্নর আরো মনে করিয়ে দিয়েছেন যে দর্শনার্থীদের তাপমাত্রাও পরীক্ষা করা হবে এবং মাস্ক পরাও বাধ্যতামূলক থাকবে।
১৭টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে যেখানে ৭৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী ১০১টি গাড়ি ও একটি হেলিকপ্টারের সমন্বিত একটি অ্যাম্বুলেন্স ইউনিটের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।

ইয়ারলিকায়া আরো জানিয়েছেন, বড় জনসমাগমের কারণে কিছু রাস্তাও বন্ধ করা হবে।

ইস্তাম্বুল মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটিও (আইবিবি) ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মসজিদে যাতায়তের জন্য ২৫ টি শাটালার ট্রেন ফ্রি করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এই এরিয়াতে পার্কিং ফ্রি করা হয়েছে।

মিউনিসিপ্যালিটি কতৃপক্ষ ২৫ হাজার পানির বোতল, মাস্ক, জীবাণুনাশক এবং জায়নামাজ সরবরাহ করার পরিকল্পনা করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রায় ১,৫০০ লোক জুমার নামাজে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দেশি-বিদেশী পর্যটকদের জন্য তুরস্কের সর্বাধিক দর্শনীয় স্থানগুলির মধ্যে আয়া সোফিয়া অন্যতম।

১৯৮৫ সালে যাদুঘর হিসেবে স্থাপনাটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

ইস্তাম্বুলে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ৯১৬ বছর টানা চার্চ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ১৪৫৩ সাল থেকে শুরু করে ১৯৩৫ সাল প্রায় পাঁচশত বছর ধরে মসজিদ হিসেবেই পরিচিত ছিল এটি। এরপর ৮৬ যাবত এটা জাদুঘর হিসেবে পরিচিত ছিল।

গত ১০ জুলাই তুর্কি আদালতের রায়ে ১৯৩৪ সালের তৎকালীন মন্ত্রী পরিষদের জাদুঘরে রুপান্তরিত করার আদেশটি রহিত করার পর পুনরায় মসজিদ হিসেবে চালু করতে আর কোন বাধা রইল না।

এরপর ১৬ জুলাই তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর এটি মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পরে আয়া সোফিয়া পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

এই চুক্তির অধীনে দেশটির সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আয়া সোফিয়ার সংস্কার ও সংরক্ষণের কাজ তদারকি করবে এবং ধর্ম বিষয়ক অধিদপ্তর ধর্মীয় সেবা তদারকি করবে। সূত্র: ডেইলি সাবাহ।

 

 

 

এশিয়ান টাইমস্/এমজেডআর


এ জাতীয় আরো খবর